নব-দম্পতির রঙিন ভুবন
ঘরের দেয়ালে রঙের বিন্যাস নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে। কিন্তু প্রসঙ্গ যেহেতু নব-দম্পতির বাড়ি, সেক্ষত্রে একটু বিশেষভাবে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি। নব-দম্পতি মানেই তারুণ্য উচ্ছলতা উজ্জ্বলতা এবং প্রেমময়তা। আর দু'চোখ ভরা রঙিন স্বপ্ন। আমরা জানি রঙ মানুষের মনকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করে। তাই প্রতিটি ঘরের রঙ এমন নির্বাচন করতে হবে যেন পুরো ঘরের পরিবেশটিকেই স্বপ্নীল এবং বর্ণিল করে তোলে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ঘরের দেয়ালেই থাকতে হবে উজ্জ্বল রঙের ছটা। প্রথমেই আসা যাক বসার ঘরের রঙের বিন্যাস প্রসঙ্গে। যেহেতু নব-দম্পতির বাসা - তাই এক্ষেত্রে উজ্জ্বল এবং বর্ণিল রঙগুলোকেই বেছে নিতে হবে। বিয়ের পর নতুন যুগলের সংসার দেখতে আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-স্বজন অনেকেই বেড়াতে আসেন, এদের প্রথমে বসার ঘরেই অভ্যর্থনা জানানো হয়, এই ঘরেই চলে আড্ডা। তাই বসার ঘরের রঙ হতে হবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। সেক্ষত্রে লাল সাদা কালো, সবুজ-হলুদ, গাঢ় নীল লেমন হলুদ, গাঢ় ধূসর-সমুদ্র নীল-গোলাপি, নীল-কমলা-জলপাই সবুজ রঙগুলোই প্রাধান্য পায়। বিশেষ কোন একটি দেয়ালকে গাঢ় একটি রঙ দিয়ে হাইলাইট করে বাকি দেয়ালগুলো কোন একটি হালকা শেডের রঙ করলে ভালো লাগবে। তবে এর সাথে সোফার কভার, পর্দা, কার্পেট বা রাগস্ বিপরীত টোনের একটি রঙ নির্বাচন করলে ঘরটি অনেক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। খাবার ঘরের দেয়ালে গাঢ় হলুদ, কমলা, লেমন হলুদের মতো উষ্ণ রংগুলো ভালো লাগবে। এই রঙগুলোর সাথে খাবারের এক অদ্ভুত সংযোগ আছে। এর সাথে জানালার পর্দা, ক্রোকারিজ অথবা টেবিল ম্যাটগুলো জলপাই সবুজ অথবা কমলার এবং লালের মিশ্রণ হলে খাবার ঘরটি অনেক বেশী প্রাণবন্ত লাগবে। শোয়ার ঘর হচ্ছে একান্ত ব্যক্তিগত জায়গা, এই ঘরের দেয়ালের রঙ নির্ভর করবে একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের উপরে। এই ঘরের দেয়ালের রঙ শান্ত-স্নিগ্ধ হতে পারে আবার উষ্ণ ও উজ্জ্বল রঙের বিন্যাসও হতে পারে। নব-দম্পতির জন্য এই দুই শ্রেণীর রঙই সমানভাবে মানাবে। যেমন - লাল-ধূসর, মেরুন-সোনালী, ধূসর-কমলা রঙগুলো ঘরে উষ্ণতার ভাব নিয়ে আসবে। আবার ধূসর-হলুদ, গাঢ় নীল-মিষ্টি গোলাপি, ল্যাভেন্ডার-সাদা রঙগুলো শান্ত ও স্নিগ্ধতার আবেশ ছড়াবে। এই দুই শ্রেনীর রঙের বিন্যাসই ঘরে রোম্যান্টিক আবহের সৃষ্টি করবে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ঘরে কিছুটা নাটকীয়তা আনতে হবে লাইটিং, পর্দা, বিছানার চাদর, রাগস্, ফুলদানী অথবা ফুলের রঙ নির্বাচনের মাধ্যমে। বাড়িতে যদি ফ্যামিলি লিভিং বা ব্যক্তিগত বসার কোন স্পেস থাকে তবে সেখানকার দেয়ালটি গোধূলির রঙে রাঙিয়ে নেয়া যেতে পারে। সেখানকার একটি দেয়ালে হলদে কমলা রঙে রাঙিয়ে একটি গোধুলির ছবি এঁকে নিলে পুরো সন্ধ্যেটাই যেন চলে আসবে ঘরের মধ্যে। যেখানটায় বসে চায়ের সাথে দুজনে একান্তে কাটিয়ে দেয়া যাবে আস্ত একটি বিকেল এবং সন্ধ্যা। প্রতিটি ঘরের ক্ষেত্রেই দুই থেকে তিনটি রঙকে নির্বাচন করে পুরো দেয়ালের রঙের বিন্যাস সম্পন্ন করতে হবে। যেমন - কোন একটি দেয়ালে গাঢ় নীল করে ঠিক অপজিটের দেয়ালটি ক্রীম হলুদ রঙ এবং দুইপাশের দেয়াল ধূসর রঙ করলে ঘরটি অনেক রঙিন অথচ স্নিগ্ধ হয়ে উঠবে। তবে প্রতিটি ঘরের জন্য আলাদা আলাদা থিমভিত্তিক রঙ নির্বাচন করলে ভালো লাগবে।