সাজ পোশাকে নারীর স্বাধীনতা

Mar 15, 2022

Teal Flower

একজন নারী প্রথমে একজন মানুষ তারপরে সে নারী, একজন মানুষ হিসেবে সাজপোশাকে অবশ্যই তাঁর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। তবে আমি মনে করি স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, সেটা নারী-পুরুষ যে কোন মানুষের ক্ষেত্রেই।  


যা খুশী তাই পড়বো যেভাবে খুশী সেভাবে সাজবো – সেটা কখনোই ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক হতে পারেনা। প্রতিটি মানুষেরই আলাদা আলাদা চরিত্র ভিন্ন স্বত্বা রয়েছে - একজন নারী কখনও মা কখনও শ্বাশুড়ি, কখনও মেয়ে, কখনও স্ত্রী, কখনও বোন।

আবার সেই নারীই কখনও গৃহিণী, কখনও চাকুরীজীবী, কখনও ছাত্রী, কখনও শিক্ষিকা বা অন্য যে কোন পেশার সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ প্রতিটি নারী যে পেশারই হোক কিংবা ব্যক্তি জীবনে যেই ভূমিকা পালন করুক - তাঁকে সেই পরিস্থিতি পেশা পারিপার্শ্ব স্থান কাল বিবেচনা করে সাজপোশাক নির্বাচন করাটাই হচ্ছে তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। সে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট-টপস্‌, জিন্স-শার্ট তাঁর পছন্দমতো যে কোন পোশাক পড়তেই পারে, তবে তাঁকে প্রথমেই বুঝতে হবে সে যেই সাজপোশাক পছন্দ বা নির্বাচন করছে সেটা সে ধারণ করতে পারবে কিনা!

 

আজকাল বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় হুজুগ প্রবণতা।নিজেকে অতি আধুনিক উপস্থাপন করতে গিয়ে যা খুশী তাই পড়ে ফেলছে – বিশেষ করে বিদেশী সংস্কৃতির প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। অনেকেই ভাবছেন না সে যেই সাজপোশাক পড়ছেন সেটা তাঁকে মানাচ্ছে কিনা।এটা নারীর স্বাধীনতা হতে পারে তবে অবশ্যই বুদ্ধি-বিবেচনা বা ব্যক্তিত্বের প্রকাশ নয়।   
 
ব্যক্তিগতভাবে আমি শাড়ি পড়তে পছন্দ করি।যে কোন উৎসবে-পার্বণে, সামাজিক বা অফিসিয়াল কাজে আমি সবসময় শাড়ি পড়ি, শাড়ি আমার ভালোবাসা।নিজে শাড়ি ডিজাইন করি তাই যে কোন অনুষ্ঠানে নিজের শাড়িই পড়ি।সেটা খুব দামী কিংবা সাধারণ সুতি শাড়ি হোক এটা আমার কাছে মূখ্য নয় – সাথে সাধারণ মেক-আপের সাথে থাকে বড় একটা টিপ এবং চোখে কাজল।আমি বাঙালি মেয়ে এই সাজেই আমি অনন্য এবং স্বাচ্ছন্দবোধ করি, এটাই আমার স্টাইল।   

তাই প্রত্যেক নারীকে প্রথমেই বুঝতে হবে কোন পোশাকে সে স্বাচ্ছন্দবোধ করে এবং সেটা তাঁকে মানাচ্ছে কিনা এবং একইসাথে তাঁর সাজপোশাকের দ্বারা অন্য কেউ বিব্রতবোধ করছে কিনা – সাজপোশাক কারও আরোপিত বা অন্য কারও ইচ্ছেয় হতে পারেনা।